ফেনী

সেনবাগে ধর্ষণ মামলায় দুই ভাই গ্রেফতার

ধর্ষিতার দাবী তার যেন বিয়ে হয়

দাগনভূঞা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের বীর নারায়নপুর গ্রামের একটি ধর্ষণ মামলায় দুই সহোদর ভাইকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। গতকাল উক্ত গ্রেফতারের ঘটনায় ধর্ষিতা দাবী করেন ধর্ষণকারীর সাথে যেন তার বিয়ে হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বীর নারায়নপুর গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মিজানুর রহমান রুবেল একই বাড়ীর মৃত ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে রেহানা আক্তার বিউটিকে গত ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়ে রেহানা আক্তার প্রতিবাদ জানালে মিজান তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। সরল বিশ্বাস করে রেহানা আক্তার মিজানের প্রলোভনে পড়ায় মিজান একাধিকবার রেহানাকে ধর্ষণ করার সুযোগ পায়। এক পর্যায়ে রেহানা অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে রেহানা বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতে মিজান ক্ষিপ্ত হয়ে রেহানাকে প্রাণে মেরে ফেলার পায়তারা করে। গত ২০ মার্চ ২০১৯ইং তারিখে কাজী অফিসে বিয়ে করার কথা বলে রেহানাকে পুসলিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক তার গর্ভে থাকা ৪ মাসের সন্তানটিকে নষ্ট করে ফেলে মিজান এবং তার পরিবারের লোকজন। অধিক রক্তক্ষরণ হওয়ায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা দাগনভূঞার হাজী ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয় রেহানা। রেহানা কিছুটা সুস্থ হয়ে বিষয়টি সামাজিক ভাবে বিচারের প্রার্থী হলে মিজান এবং তার পরিবার প্রভাব খাটিয়ে এর কোন মীমাংসা না করে সমাজপ্রতি ছিদ্দিক উল্যাহর সহযোগীতায় রেহানাকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেয়। পরে বাধ্য হয়ে রেহানা নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মিজানকে প্রধান আসামী করে তার পরিবারের ৬ জনের নামে মামলা করে। মামলা নম্বর ২৬৩/১৯। গতকাল সেনবাগ থানার পুলিশ মিজানুর রহমান রুবেল এবং তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম শুভকে তাদের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। ঐদিকে একই বাড়ীর মফিজ উল্যাহ ও তার স্ত্রী শাহিনুর আক্তার এবং প্রতিবেশী কামাল উদ্দিন রেহানাকে বাড়ী ঘর ছাড়তে বলে অন্যথায় প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এখন রেহানা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতেছে এবং তার দাবী হচ্ছে ধর্ষক মিজান যেন তাকে বিয়ে করে সামাজিকভাবে মর্যাদা দেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close