নোয়াখালীর খবর

কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে সুবর্ণচরে বিক্ষোভ সমাবেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুবর্ণচর উপজেলা পশ্চিম শাখার উদ্যোগে ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরীদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাযের পর সুবর্ণচর উপজেলার হারিছ চৌধুরী বাজার চত্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনু্ষ্িঠত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সুবর্ণচর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওঃ আশ্রাফ আলী দিদার, সুবর্ণচর উপজেলা শাখা(পশ্চিম) সাধারনসসম্পাদক, হাফেজ মাওলানা নাসরুল্যাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ নুরুল আমিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাও নুরুল ইসলাম, নোয়াখালী জেলা দক্ষিন শাখার ইশা কওমী মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ইসমাইল প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ভারতবর্ষ যখন স্বাধীন হয় তখন বৃটিশ সরকার নিয়ম করে দিয়েছিল কাশ্মীর একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র, এখানকার জনগণ সর্বদিক থেকে স্বাধীন। এমনকি এখানে কেউ জমিজমা ক্রয়, বহিরাগতরা নাগরিকত্বও নিতে পারবে না। কিন্তু মোদি সরকার ৩৭০ ধারা পরিবর্তন করে নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ভারতের সংবিধানের ২-এর ক-খ ধারায় উল্লেখ আছে, কোন দেশকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নিতে হলে প্রেসিডেন্ট অর্ডিনেন্স জারি করবে, এবং কাশ্মীরের জনগণের মতামত নিবে। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
কাশ্মীর সঙ্কট শুধু কাশ্মীরেরই নয়, এ সঙ্কট বাংলাদেশেরও। এজন্য বাংলাদেশের জনগণকে প্রতিবাদমুখর হতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, পাকিস্তানীরা যেভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, অনুরূপভাবে কাশ্মীরীদের অধিকারও মোদি সরকার কেড়ে নিয়েছে। সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ এমনকি ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে কাশ্মীরের মুসলিম রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার, গৃহবন্দি, সৈন্য সমাবেশের মাধ্যমে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। সেখানে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে কোন মুসলমান নিশ্চুপ থাকতে পারেনা। সে পৃথিবীর যে প্রান্তেরে অধিবাসীই হোক না কেন। পরাধীনতার যে কি যাতনা, তা আমরা জানি। আগ্রাসী শক্তির অত্যাচারের বেদনা আমরা বুঝি। ‘৭১ পূর্ব হানাদার বাহিনী কর্তৃক হত্যা, ধর্ষণের শিকার আমরা হয়েছি। সেখান থেকেই আমরা পৃথিবীর সকল নিপীড়ন-নিষ্পেষনের বিরোধীতা করি। ‘৭১এর চেতনাই আমাদেরকে কাশ্মিরীদের পাশে দাড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। সেই চেতনা থেকেই আমরা কাশ্মীরের স্বাধীনতা চেয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করছি। আমরা আজকের বিক্ষোভ থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য সাধ্যানুযায়ী সহযোগীতা করার জন্য প্র ত থাকার ঘোষণা করছি। পাশাপাশি ভারতের মোদি সরকারের এহেন অসাংবিধানিক হটকারী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সকল ধরণের পণ্য বর্জন করার জন্য দেশের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহবান জানাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close